প্রতিনিধিঃ মাখন মিয়া
মানুষের অসুখ করে, ক্ষিধেও পায়,
তুচ্ছ বলে মানুষ যাকে এড়িয়ে চলে
তার নামই তো উপন্যাস, উপাখ্যান!
ঋণের দায়ে বিক্রি করা জমির টাকা যখন ফুরোয়
মানুষ তখন বোঝে উপন্যাস কাকে বলে —
ছোট গল্পের নাম শুরু, উপন্যাসের নাম সমাপ্তি,
তুমি যে বিশ্বাস আজ ভাঙ্গলে তার নাম দিলাম ছোট গল্প।
আর খেঁটে খাওয়া মানুষের ন্যুব্জ দেহ—-
অর্থের জন্য খুন হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের জন্য কান্নার নামই তো জীবন আলেখ্য! উপন্যাস!
মায়ের বৃদ্ধাশ্রমের নাম ছোট গল্প,আর মায়ের ভালোবাসার নাম উপন্যাস!
জীবন কী অদ্ভুত তাই না?
আর্থিক নিপিড়ীত বাবার অসহায় মুখে আমরা উপন্যাস পড়ি।
আজকাল আমরা কেমন ছোট গল্পের উপর ঝুঁকে পড়েছি। উপন্যাসের চাহিদা নব্বই দশক থেকে যেন ফুরিয়ে গেল।
ভাইয়ের সাথে বৃষ্টিতে ফুটবল নিয়ে মাঠে যাওয়া , বাবার ঘাড়ে উঠে মেলার নাগরদোলায় চড়ার সেই বিশাল উপন্যাস আজ আর নেই।
গরুর গাড়িতে উঠে মামা বাড়ি যাওয়া, প্রেমের জন্য হাত কেটে প্রেমিকের নাম লেখার সেই বৃহৎ উপন্যাস ছোট গল্পের চাপে কেমন ফুরিয়ে গেল।
তুমি আমার উপন্যাস ছিলে একদিন, আজ শুকনো পাতার গল্পের মতো তুমি আমার ছোট গল্প হয়ে গেলে।
অথচ তোমাকে সাথে নিয়ে দরদাম করে মাছের বাজারে গিয়ে একটা উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শুভ সকাল বলে একটা ছোট গল্প লিখে গেলে।
আজও কেন জানি মনে হয় ইচ্ছে করলে আমরা একটা বড়ো উপন্যাস লিখতে পারতাম। আগুনে পুড়ে মাটির উনুনে ফ্যানা ভাত ভাগ করে খেতে খেতে অনেক বড়ো একটা উপন্যাস লিখতে পারতাম।
পারতাম সারাদিন টিউশন করে, দুপুরে পাঁচ টাকার এক প্যাকেট লেক্সাস বিস্কিটের সাথে এক কাপ লাল চা দিয়ে একখান উপন্যাস লিখতে।
তাল পাখার বাতাস দিতাম দুজন হাত বদলে নিয়ে, একখানা কাঁথার উপর-নিচ টানাটানি করে হাসতে হাসতে রাত পার করার উপন্যাস লিখতে।
এক প্লেট কাচ্চিবিরিয়ানি খেতে পারতাম দুজন ভাগাভাগি করে। লিখতে পারতাম একটা আটপৌরে জীবনের অমীমাংসিত উপন্যাস।
কিন্তু কী হলো বলো, তুমি ইতিহাস হতে হতে উপন্যাস শেষ করে, ছোট্ট একটা গল্প লিখলে।
যার নাম বিদায়!
৪/১১/২০২৫
Leave a Reply