বিশেষ প্রতিনিধি আজাহারুল হক
১১ জানুয়ারি কালিয়াপাড়া ঘোনারচালায় নির্বাচন-পরবর্তী সভা আহ্বান করা হয়েছিল। আমি টাঙ্গাইলেই ছিলাম। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ, বারবার নানা জায়গা থেকে অনুরোধ আসছিল। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমার সাদামাটা স্ত্রী সহজভাবেই বলেছিল, ‘এরকম এক অবস্থায় না গেলেও পারো; কিন্তু গেলে ভালো হয়।’ তাই গিয়েছিলাম। ১১ জানুয়ারি ’৭২ আমার জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার পর প্রথম পিতার সঙ্গে দেখা। ধানমন্ডির ১৯ নম্বর সড়কে ঠিক সকাল ৭টায় পিতাকে আলিঙ্গন করেছিলাম। আর মন্ত্রিসভার শপথ ছিল কাঁটায় কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টায়। ধীরে ধীরে সবকিছু কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। ক্যাবিনেট সচিব সবাইকে সম্বোধন করলেন। কিন্তু নানা দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি তিনি মুখে আনেননি। একেবারে সামনের আসনে বসেছিলাম। ডানে জি এম কাদের, এক আসন বাদে বামে প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু। খুব অল্প সময়ের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা। আমি আপ্যায়নে শরিক হইনি। চলে এসেছিলাম। বঙ্গভবনে গাড়ি বের করতে খুবই জটিলতা। তাই অনেক কষ্টে পায়ে হেঁটে বেরিয়ে ট্যাক্সি করে চলে এসেছিলাম। এসেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছি।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,.jpg)
বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ’৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথম এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা চারবার, সব মিলে মোট পাঁচবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আমার পরিবার এবং আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানাচ্ছি। আপনার সুমহান নেতৃত্বে জাতি গঠনে সফলকাম হন- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
এবার আমার নির্বাচন নিয়ে লেখা হলো না। পরের পর্বে লিখব। আমার নির্বাচনের সঙ্গে প্রথম পরিচয় বা নির্বাচন দেখা ’৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নির্বাচন দিয়ে। তখন কালিহাতী-বাসাইলে ফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন আমীর আলী খান
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply