সম্পাদকীয় পোস্ট:
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক কোন সরকারি কার্য সম্পর্কে বৈধ পারিশ্রমিক ব্যতীত অন্যবিধ বকশিশ গ্রহণ :
যে ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী হইয়া বা হইবার প্রত্যাশায় কোন সরকারি কার্য সম্পাদন করার জন্য বা সম্পাদন করা হইতে বিরত থাকার জন্য অথবা তদীয় সরকারি কর্তব্যসমূহ সম্পাদনকালে কোন ব্যক্তির প্রতি সরকার বা আইন পরিষদের বা সরকারি কর্মচারী হিসাবে কোন সরকারি কর্মচারীর তরফ
হইতে অনুগ্রহ বা অসন্তোষ প্রদর্শন করার জন্য বা প্রদর্শন করা হইতে বিরত থাকার জন্য বা কোন ব্যক্তির প্রতি কোন উপকার বা অপকার সাধন করার জন্য কোন কিছু গ্রহণ করে।বি
আইনের বিশ্লেষণ:
আলোচ্য দণ্ডবিধির ১৬১ধারার বিধান মতে, সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা সংঘটিত ঘুষ-দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, কোন স্বার্থ বা সম্পদের কিংবা সম্পর্কের বিনিময়ে বা খাতিরে ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা কাহাকেও সহানুভূতি দেখান কিংবা বিদ্বেষপ্রসূত হইয়া কাহারও ক্ষতিসাধন করার অপরাধে দণ্ডের বিধান দেওয়া হইয়াছে। সরকারি কর্মচারীগণ প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। ক্ষমতা বৈধ পন্থায় সুবিবেচনাপ্রসূত মনোবৃত্তি সহকারে ঔচিত্য যাচাইপূর্বক প্রয়োগ না করা হইলে সমাজের প্রভূত ক্ষতি সাধনের সম্ভাবনা থাকে। ক্ষমতার ব্যাপ্তি বা গণ্ডি অনেক ক্ষেত্রে বিস্তৃত তবে নিরংকুশ বা অবারিত নহে। ক্ষমতা বৈধ পন্থায় প্রয়োগ করা হইবে ইহাই প্রত্যাশিত। কিন্তু যেখানে ক্ষমতার দাপট, কার্যের গুরুত্ব ও পরিধি এতটা বিস্তৃত যে উহাকে অর্থের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা যায় না। এই সমস্ত ক্ষেত্রে কোন পক্ষের আবদার, অনুরোধ, প্রভাব ইত্যাদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করিতে পারে। সেই আশংকায় এই অধ্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের কার্যকলাপের ধরণ ও প্রকৃতি যাহা অপরাধমূলক হইতে পারে তাহা উল্লেখপূর্বক দণ্ডের বিধান করা হইয়াছে। কোন সরকারি কর্মচারী সরকার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কার্য সম্পাদন কালীন বৈধ পারিশ্রমিক ব্যতীত অন্য কোন প্রকার পারিশ্রমিক, বকশিশ কিংবা পারিতোষিক গ্রহণ করিলে তাহা এই ধারানুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে ঘুষ গ্রহণকারীর সাজা হবে ৩ বৎসর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
© All rights reserved © 2022
Leave a Reply