৪ বারের নির্বাচিত
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বাজিতপুর নিকলী উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন-কে মেহেরপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। গত রবিবার মধ্যরাতে শহরে সরকারি কলেজ মোড়ে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেরপুর সদর থানা অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেজবা উদ্দিন বলেন, মেহেরপুর পৌর শহরে তাহের ক্লিনিক পাড়া মামুন হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবারে ভোরে মুজিবনগর উপজেলা সুনাপুর সীমান্ত দিয়ে আফজাল হোসেন ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। আফজাল হোসেন বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ৪ই আগষ্টে বাজিতপুর এমপি মার্কেট থেকে কয়েকশত রাউন্ড গুলি বর্ষন করে সাধারণ ছাত্র জনতার উপর।এতে বিএনপির নেতা হোসেন আলী মৃত্যু বরণ করেন। ৫ই আগষ্ট গণ – অভূত্থানের সময় সে বাজিতপুর তার নিজস্ব মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার কাজে লাগিয়ে দিয়ে সে এম্বুল্যান্স দিয়ে দিলালপুর নদীর ঘাট থেকে স্পিডবোটে পালিয়ে যায়। আওয়ামীলীগের সরকার পালানোর পর তার বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার নামে ঢাকা দুদকে একটি মামলা রয়েছে। কমিশনার চৌধুরী আলম হত্যা মামলার সাথে তার নাম রয়েছে। আফজাল হোসেন ২০০৮ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। টানা ৪ বারের সংসদ সদস্য তিনি আওয়ামীলীগের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে তার ভাইকে বিনা ভোটে পৌর মেয়র নির্বাচিত করেন, তার শেলক-কে চেয়ারম্যান বানায়, তার ভাগিনা ও কর্মচারীকে চেয়ারম্যান বানিয়ে এলাকার ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেন। বাজিতপুরে গত ১৬ বছরে বিএনপি, জামাত ও অন্যন্য রাজনৈতিক নেতাদের মাঠে নামতে দেইনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। আফজাল হোসেন গ্রেপ্তারে খবর শুনে বাজিতপুরে তার ফাঁসির দাবীতে আনন্দ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন অনেকে। বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির সাবেক এমপি তার ছেলে মুস্তাফিজুর মামুন, ঢাকা পলিটেকনিক্যাল এর সাবেক জিএস বদরুল আলম শিপু এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ-বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ মো: মুরাদ হোসেন বলেন আফজাল হোসেন সম্পর্কে অফিশিয়ালভাবে কোন সংবাদ জানা নাই। আন অফিশিয়ালভাবে সে ডিবি হেফাজতে আছেন।
Leave a Reply