প্রতিনিধি রাজীব আহমেদ পিয়াস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman ও বিএনপির সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের নিরিখে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে একজন,জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ্ ভিপি সোহেল ভাইয়ের পক্ষে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে রাখলাম।
দাবি জানানো আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।আর অবশ্যই বিএনপি গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় বিশ্বাসী একটি দল যার আদর্শ আমরা ধারণ করি।
ভিপি সোহেল ভাই তৃণমূলের একজন দক্ষ সংগঠক এবং নেতা তৈরীর কারিগর।সামাজিক বলয়ে জেলা শহর যাদের হাতে নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের মধ্যে ভিপি সোহেল একজন।
১৭ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসনে ভিপি সোহেলকে রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিতে হয়েছে ৬৪ টি,সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ১১ বছরের।গত ১৭ বছরে সেভারেল টাইমে ৪ বছরেরও অধিক সময় জেলে কাটিয়েছেন,স্বৈরশাসকের লাইসেন্সড নির্যাতন রিমান্ড নামক নাটকের বেদম প্রহারে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন,শিক্ষাঙ্গনে গোল্ড মেডেলিস্ট উনার স্ত্রী বিনা নোটিশে অধ্যাপনারত অবস্থায় সরকারি কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন,ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।তবু ভিপি সোহেলকে,ভিপি সোহেলের তৃণমূলের সংগঠিত শক্তিকে দমাতে পারেনি হাসিনা।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারী কলেজের ৯০ এর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ভিপি সোহেল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সফল সাধারণ সম্পাদক থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব,আহ্বায়ক,দুই দুইবার জেলা বিএনপির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় কোন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি জীবনে একবারই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ব্রত নিয়ে।স্থানীয় নির্বাচনে নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী না হয়ে বরং সুযোগ করে দিতেন সমসাময়িক নেতৃত্বকে।
জাতীয়তাবাদী পরিবারের নেতা হিসেবে একজন স্মার্ট-সচেতন-শিক্ষিত মানুষ ভিপি সোহেলের দুইটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের কথা বলি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ভিপি সোহেল সেক্রেটারি প্রার্থী ছিলেন।প্রার্থী মানে শক্ত অবস্থানে থাকা কন্সিস্টেন্ট প্রার্থী।কাউন্সিলের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে নিজ কর্মী সমর্থকদের মাঝে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করলে তিনি ফলাফল কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে রাত তিনটায় বক্তব্য প্রদানকালে বলেছিলেন “ফলাফল যাই হোক আমরা মেনে নিবো।ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশই চূড়ান্ত।”আরো স্পেসেফিক করে বলেছিলেন “আপনারা কেউ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলে বটবাহিনীকে অপপ্রচার করার সুযোগ করে দিবেন না।”আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং নিজকানে এটা শোনার পর মনে মনে ভেবেছিলাম নিজ স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ আগে এটাইতো জিয়ার আদর্শ-বেগম জিয়ার বিএনপি-তারেক রহমানের বিএনপি।
জেলা বিএনপির কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার আগে একাধারে জেলা বিএনপির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে থাকা ভিপি সোহেল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি থেকে পদত্যাগ করে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতিই থেকে গিয়ে কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।এটা স্বাভাবিক কিন্তু এই কাজের মাধ্যমে তিনি বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশেষ ধারা ‘এক নেতার এক পদ’কে হাইলাইটেড করেন বিচক্ষণতার সাথে।বাংলাদেশের আপকামিং রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য এবং দেশবিরোধী কালো শক্তির গুপ্ত রাজনীতিকে প্রতিহত করার জন্য নেতৃত্বের কোয়ালিটিতে বিচক্ষণতা আবশ্যক হয়ে উঠবে।
একটি স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফার্স্ট ডিভিশনের সাবেক ক্রিকেটার,একজন খ্যাতনামা সাঁতারু,বিগত সময়ে জেলা শহরকে মাদকমুক্তকরণে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ৭ বারের সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত ভিপি সোহেলের জীবনের একটাই লক্ষ্য একবার সংসদে যাওয়া।আর সে লক্ষ্যেই ১৯৮৫ সাল থেকে ভিপি সোহেল আজ অব্দি নিরলসভাবে সংগঠিত করে যাচ্ছেন ধানের শীষের ঝান্ডা উড়ানো তৃণমূলকে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রাথমিক প্রার্থী নির্বাচন ও চূড়ান্ত মনোনয়নে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ভিপি সোহেল তৃণমূলকে সংগঠিত করে যাবেন আগের ন্যায় ধানের শীষের স্বার্থে,জিয়া পরিবারের স্বার্থে,দেশের স্বার্থে এবং রাজপথে উনার নেতৃত্বে স্লোগানের ঝড় বইবে “আমি তুমি ভাই-ভাই,ধানের শীষে ভোট চাই।”এভাবেই সবার সহযোগিতায় বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে উঠবে জনগণের প্রত্যাশিত মানবিক,সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
Leave a Reply