জেলা প্রতিনিধি : সাদেক মিয়া
কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদসহ (পুতুল), আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবেদুল কাদের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নামসহ ১২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০/২৫০ জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলি করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন তহমুল ইসলাম মাজহারুল (২৭) নামের এক তরুণ।
তহমুল ইসলাম মাজহারুল কিশোরগঞ্জ সদরের উত্তর লতিবাবাদ এলাকার আবু তাহের ভূঁইয়ার ছেলে। তহমুল জানান, তিনি বিএনপির একজন কর্মী। আন্দোলনের সময় তিনি আহত হয়েছিলেন।
পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলায় এ পর্যন্ত অর্ধশত মামলা হলেও এ প্রথম কোন মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আবদুল হামিদ ৩ নম্বর আসামি। ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে; ২ নম্বরে আছেন শেখ রেহানা। আবদুল হামিদের নামের বানান আঃ হামিদ (৮০) লেখা হয়েছে। পিতার নাম মো. তায়েব উদ্দিন ও সাং জেলার মিঠামইনের কামালপুর উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে রাদওয়ান সিদ্দিক ববিকে এছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাসান মাহমুদ, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, আলী আরাফাত, শামীম উছমান এবং নাজমুল হাসান পাপনসহ ১২৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গড়ে ওঠা ঐক্য-আন্দোলনকে দমন করতে দেশ-বিদেশে অবস্থান করা ১ নম্বর থেকে ২০ নম্বর আসামি সারা দেশে গণহত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক তাঁরা কিশোরগঞ্জে যাতে কোনো আন্দোলন হতে না পারে, সে জন্য ২১ থেকে ৪০ নম্বর আসামিদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ৪১ থেকে ১২৪ নম্বর আসামিরা শটগান, বন্দুক, পিস্তল, ককটেল, বোমা ও দেশি অস্ত্র এবং অর্থ সরবরাহ করে আন্দোলন দমাতে এবং গণহত্যার নির্দেশ দেন। গত বছরের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় ছাত্র–জনতার মিছিলে আসামিরা হামলা চালান। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের আহত করেন। এ ছাড়া আসামিরা গ্রেনেড, ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন।
মুঠোফোনে কথা হলে মামলার বাদী তহমুল ইসলাম মাজহারুল নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মামলা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মামলাটি করা হয়েছে। ‘মামলাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply