প্রতিনিধিঃ
সরকারি চাকরি জীবনের দ্বিতীয় কর্মস্থল ছিল প্রিয় হোসেনপুর। নিজ জেলার কাছে হওয়ায় এখানকার মানুষ, মাটি, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানে ছিল এক অপূর্ব সাদৃশ্য—যা আমাকে শুরু থেকেই এক আত্মিক টান ও আপন ভুবনের অনুভূতি এনে দিয়েছে । এক বছর দুই মাসের কর্মকাল যেন অতি দ্রুত পার হয়ে গেল, কিন্তু তার প্রতিটি দিন ছিল অভিজ্ঞতা, মানবিকতা ও সেবার অনন্য পাঠশালা।
কর্মজীবনের এই অধ্যায়ে আমি একযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও হোসেনপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দ্বৈত দায়িত্ব পালন করেছি। জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, সীমিত সম্পদ ও সময়ের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। মানুষের প্রত্যাশার মানদণ্ড সবসময় পূরণ করতে পারিনি—, তবে চেষ্টা ও আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না কখনোই।
নানামুখী সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কিছু ভিন্নধর্মী উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রয়াস চালিয়েছি। ভূমি ব্যবস্থাপনা, পৌরসেবা, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদির ক্ষেত্রে নিয়মিত শুনানি ও সরাসরি মানুষের কথা শোনার সুযোগ পেয়েছি। অনেক সময় সফল হয়েছি, আবার ব্যর্থতাও এসেছে—কিন্তু শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হয়েছে অমূল্য।
এই যাত্রায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের নেতৃত্ব ছিল আমার জন্য এক পরম আশ্রয় ও প্রেরণার উৎস। তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, একজন অভিভাবক হিসেবেই ছায়াস্বরূপ পাশে ছিলেন সর্বদা। তাঁর প্রতি রইল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। একইসাথে আমার পূরর্ববর্তী ইউএনও স্যার, জেলা প্রশাসক স্যার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) স্যার এবং সকল সিনিয়র স্যারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যাঁদের দিকনির্দেশনা পথচলাকে সুদৃঢ় করেছে।
দুটি প্রতিষ্ঠানে আমার প্রিয় সহকর্মীরা ছিলেন খুব আন্তরিক । তাঁদের সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা আমার পেশাগত জীবনকে সহজ করেছে । হোসেনপুরের সম্মানিত সকল শ্রেণিপেশার মানুষ সহ সম্মানিত শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এবং আমার প্রিয় সেবাপ্রত্যাশী জনগণের প্রতি—রইল অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা।
এই হোসেনপুরেই মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার দিয়েছেন—আমার প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম এখানেই। আলহামদুলিল্লাহ। এই অঞ্চল আমার কর্মস্থল ছিল, আজীবন হৃদয়ের একটি পরম অধ্যায় ।
Leave a Reply