প্রতিনিধিঃ এনামুল হক
রেলওয়ে ব্যবস্থাপনায় সামান্য ভুলও যে কত বড় ভোগান্তির জন্ম দেয়, তা শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে সাম্প্রতিক এক দৃশ্য আবারও সামনে নিয়ে এল। ঢাকা গামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও সিলেট গামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস—দুটি ট্রেনের ক্রসিং হবে এমন ধারণা দিয়ে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়। সেই প্রত্যাশাতেই যাত্রীরা উঁচু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই জয়ন্তিকা চলে আসে ২ নম্বর লাইনে। উচু প্লাটফর্ম থেকে নামার নেই কোন সুব্যবস্থা।
ফলাফল—বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে উঁচু প্ল্যাটফর্ম থেকে নিচে নামতে হয় তাড়াহুড়ো করে, অনেকে ব্যাগ হাতে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে হোঁচট খান, বয়স্ক ও নারী যাত্রীরা পড়েন আরও বিপাকে। অথচ শেষ পর্যন্ত যে ক্রসিংটি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই হয়নি। দুটি ট্রেনই চলে যায় আলাদা সময় মেনে, আর ক্রসিংবিহীন এই যাত্রার বোঝা বইতে হলো কেবল যাত্রীদেরই।
প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতার এই চিত্র নতুন নয়। স্টেশন ব্যবস্থাপনা যদি আগেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিত, ট্রেন কোন লাইনে আসবে বা ক্রসিং আদৌ হবে কিনা—এ তথ্য পরিষ্কারভাবে প্রচার করত, তবে এই ভোগান্তি এড়ানো যেত সহজেই। রেলওয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবায় এমন “অপ্রস্তুতি” শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতেই ফেলে না, বরং জনবিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন কারও কাছে তুচ্ছ না হয়—এই উপলব্ধিই এখন জরুরি। কারণ রেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আস্থার প্রতীক। এই আস্থা রক্ষায় প্রয়োজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, সুসংহত ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীবান্ধব মনোভাব। শ্রীমঙ্গলের ঘটনাটি সেই প্রয়োজনীয়তারই কঠিন স্মারক।
Leave a Reply