প্রতিনিধিঃ আজাহারুল হক
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কথা দিয়েছিলেন ‘দলের জন্য যিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যিনি আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সামনের সারিতে, যিনি মামলা হামলায় জর্জরিত ছিলেন’ এবং যিনি এলাকায় জনগণের পাশে ছিলেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।’ এটাই যদি বিএনপি’র মনোনয়নের মানদণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে ঢাকা-৯ আসনে প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, এক বাক্যে সবাই বলবে সারা বছর, প্রতিটি দিন আমরা যাকে পাশে পেয়েছি সে আফরোজ আব্বাস। শুধু নিজ এলাকায় নয়, সারা বাংলাদেশে দলের জন্য চষে বেরিয়েছেন যিনি তিনি আফরোজা আব্বাস।
কাজেই আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন বিএনপি’র জন্য ওয়াজিব নয়, ফরজ।
তিনি হামলা সহ্য করেছেন,মামলা সহ্য করেছেন, জেল খেটেছেন, সাজা ভোগ করেছেন, আদালতের বারান্দায় বারান্দায় এখনো হাজিরা দিচ্ছেন। বড় বড় বিএনপির নেতারা যখন ভয়ে ঘরের ভেতর লুকিয়ে পরেছিল, তখন আফরোজা আব্বাস ছিল রাজপথে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী আর আওয়ামী পুলিশের পেটোয়া বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি ছিলেন রাজপথে শুরু মাত্র ধানের শীষের মর্যাদা রক্ষায় বিএনপির প্রতি ভালোবাসায়।আফরোজা আব্বাস নিজের সমস্ত কিছু দিয়ে দলের জন্য চেষ্টা করেছেন সব সময়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সামনে বলেছিলেন তোমরা মনে রেখ ঢাকা -৮ আসন থেকে কিন্তু নির্বাচন করবে রুবি (আফরোজা আব্বাস)। তখন একজন জিজ্ঞেস করেছিল রুবি কে? বেগম জিয়া বলেছিলেন ‘রুবি! আফরোজা আব্বাস, আব্বাসের বউ।’ সেই আফরোজা আব্বাস এখন মির্জা আব্বাস এর স্ত্রী পরিচয়ের গন্ডি পেরিয়ে নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের একটা ব্র্যান্ডে পরিনত করেছেন দলের দুঃসময়ে পাশে থেকে।
যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আফরোজা আব্বাসকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
এভাবে যদি দলের জন্য যারা নিবেদিত তাদের বঞ্চিত করা হয় সেটা দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা দেয়।
এক পরিবারে দুজনকে মনোনয়ন না দেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় যদি আসে সেখানে কিছু কথা আছে;
ঢাকা ৬ আসন পুরোটা মির্জা আব্বাসের পরিবারের মত ছিল। তিনি বার বার নির্বাচিত হয়েছেন এই আসন থেকে। বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দ ভালোভাবেই জানেন কেন ১/১১ পরবর্তী সরকার ৬ আসনকে ভাগ করেছিল? শুধুমাত্র বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য।
উল্লেখ্য; দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আমি যখন একটি দৈনিক পত্রিকার জন্য সাবের হোসেন চৌধুরীর একটা সাক্ষাৎকার নেই, আমার এক প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছিল ‘শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে বলেছিল এই আসন মির্জা আব্বাস অর্থাৎ বিএনপির আসন, তোমার টাকা আছে, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, তুমি যেকোন ভাবেই হোক মির্জা আব্বাস অর্থাৎ বিএনপি’র এই আসন আমাকে এনে দাও। মির্জা আব্বাসের সাথে পাল্লাদের মত সবকিছুই তোমার আছে। তুমি সেটা ব্যবহার কর এবং মির্জা আব্বাসকে হারিয়ে এই আসন আওয়ামী লীগের কর।’ (সাক্ষাৎকারের ছবি সংযুক্ত)
ঢাকা- ৬ ছিল মির্জা আব্বাসের পরিবার। রাজনৈতিক কুটকৌশলে যে পরিবারকে এক এগারোর পর ৮ আর ৯ আসনে টুকরো করা হয়েছে। কাজেই পূর্বের ঢাকা ৬ আসন অর্থাৎ ৮ এবং ৯ আসন মির্জা আব্বাসের এবং আফরোজ আব্বাসের প্রাপ্য আসন।
এখন যদি আফরোজা আব্বাসকে মনোনয়ন না দেয়া হয় তাহলে এর প্রতিবাদ হয়তো ঐ এলাকার জনগণ ভোটের মাধ্যমে করে দেবে। যে মহিলা নিজের সংসার, নিজের সন্তান, সমস্ত কিছুকে সেকেন্ড প্রায়োরিটিতে রেখে, বিএনপিকে ফার্স্ট প্রায়োরিটিতে রেখেছে, বিএনপির জন্য রাত দিন কাজ করে গেছে সেই আফরোজা আব্বাসকে মনোনয়ন না দেয়া বিএনপির জন্য নীতি বিবর্জিত সিদ্ধান্ত।
সবকিছু সমাধান মহান আল্লাহতায়লার দরবারে আছে।
Leave a Reply